October 13, 2026, 11:36 pm

News Headline :
সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির প্রতিবাদে বগুড়ায় মিছিল ও এনসিপি নেতা তানভীরের কুশপুত্তলিকা দাহ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোটারি ক্লাব অব বগুড়ার ২৬তম অভিষেক অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি‘র তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি, শোকজ বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্ণামেন্টের প্রথম রাউন্ড সমাপ্ত ছুটির দিনে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে উত্তপ্ত নেপাল, কারফিউ জারি পাকিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

ভাষা আন্দোলনের নীরব সাক্ষী পাকবিড়রার মাঠ

যমুনা নিউজ বিডি: ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল…।’

গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে গাইছেন চিত্তভূষণ দাশগুপ্ত। গলা মেলাচ্ছেন হাজার সত্যাগ্রহী। তাঁরা গাইছেন ভজহরি মাহাতোর লেখা গান, ‘আমার বাংলা ভাষা প্রাণের ভাষা রে, ও ভাই মারবি তোরা কে তারে!’ পুরুলিয়ার পুঞ্চার পাকবিড়রা বটতলা থেকে এই গান গেয়ে ১০০৫ জন সত্যাগ্রহী রওনা হলেন কলকাতায়। অবিভক্ত মানভূমের গৌরবোজ্জ্বল ভাষা আন্দোলনের সেই ইতিহাসের সাক্ষী পাকবিড়রার এই মাঠ।

১৯৫৬ সালের ২০ এপ্রিল। লোকসেবক সঙ্ঘের নেতৃত্বে বিহার প্রদেশের জেলা মানভূমের এই জনপদ থেকে শুরু হয়েছিল বঙ্গ সত্যাগ্রহ অভিযান। ইতিহাস বলছে, ১৯১১–র ১২ ডিসেম্বর পঞ্চম জর্জ ব্রিটিশ সরকার যে সিদ্ধান্তগুলি ঘোষণা করে, তার অন্যতম ছিল বাংলাকে ভাগ করা। যার একটি বাংলাদেশ, রাজধানী কলকাতা। অন্যটি বিহার–ওডিশা প্রদেশ, রাজধানী পাটনা। এই বিভাজনে বাংলা থেকে মানভূম চলে যায় বিহার–ওডিশা প্রদেশে। মানভূমের মানুষের কাছে সেই সিদ্ধান্ত ছিল হৃদয়বিদারক। বিশেষ করে মানভূমের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মাতৃভাষা ছিল বাংলা। তাকে কেন কেটে ফেলা হলো? মানভূমবাসী প্রতিজ্ঞা করেন, ‘একদিন আমরা বঙ্গভূমিতে ফিরবই।’

১৯৪৭–এ এল স্বাধীনতা। কিন্তু তার পর থেকে ভাষা আন্দোলন নতুন করে দানা বাঁধতে শুরু করে মানভূমে। তখন এই জেলা বিহার প্রদেশের আওতায়। ১৯৪৮–এ বিহার সরকারের ফরমান জারি হলো, মানভূমের প্রতি বিদ্যালয়ে হিন্দি হবে বাধ্যতামূলক। বাংলা ভাষায় পাঠ্যবই ছাপানো বন্ধ। পুরুলিয়া জিলা স্কুল থেকে বাংলা বিভাগ তুলে দেওয়া হলো। দোকান ও বিদ্যালয়ের নাম দেবনাগরি লিপিতে লিখতে হবে। যে বিদ্যালয়ে হিন্দি পড়ানো হবে না, তার অনুমোদন বাতিল হবে অথবা সাময়িক ভাবে বন্ধ থাকবে।

মানভূম কংগ্রেস নেতৃত্ব বিহার প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির কাছে এবং অখিল ভারতীয় কংগ্রেস কমিটিতে প্রতিবাদ জানালেন। কোনও ফল না–হওয়ায় জেলা কংগ্রেসের ৩৮ জন সদস্য পদত্যাগ করে গড়ে তোলেন আঞ্চলিক গান্ধীবাদী দল লোকসেবক সঙ্ঘ। ১৯৫৩–তে লোকসভায় রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠিত হয়। সীমা কমিশন মানভূমের মাইথন, ধানবাদ ও পুরুলিয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ করে ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে।

রিপোর্ট প্রকাশিত হয় ডিসেম্বরে। পরের বছর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় ও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংহ যৌথ বিবৃতিতে জানালেন, কমিশনের সিদ্ধান্তে দুই রাজ্যের কেউই সন্তুষ্ট নয়। তাই পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যকে যুক্ত করে একটি পৃথক রাজ্য গঠিত হবে। রাজ্যের নাম হবে পশ্চিমবঙ্গ–বিহার সংযুক্ত প্রদেশ। বাংলা ও হিন্দি হবে সরকারি ভাষা। সংযুক্ত প্রদেশের প্রথম রাজধানী কলকাতা। দ্বিতীয় রাজধানী পাটনা।

ক্ষোভ আরও ভয়ঙ্কর হয়। বঙ্গ সত্যাগ্রহ অভিযানের ডাক দিল লোকসেবক সঙ্ঘ। সেই অভিযান সফল করতে সে দিন পুঞ্চার পাকবিড়রা থেকে ১০০৫ জন কর্মী যাত্রা করেন কলকাতায়। টানা ১৭ দিন তীব্র গরম উপেক্ষা করে তাঁরা কলকাতায় পৌঁছন ৬ মে। ৭ মে কলকাতায় ১৪৪ ধারা অমান্য করে সত্যাগ্রহীরা গ্রেপ্তার হন। তাঁদের ঠাঁই হয় প্রেসিডেন্সি, আলিপুর, আলিপুর স্পেশাল জেলে। ১৩ দিন কারাবাসের পর ১৯ মে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।

এর পরে বেশি দিন আটকে রাখা যায়নি মানভূমকে। দীর্ঘ বিতর্কের পরে ১৯৫৬–এর ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন মেলে। সেই বছরের ১ নভেম্বর ১৬টি থানা নিয়ে বাংলার সঙ্গে যুক্ত হয় পুরুলিয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd24.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD